কোন কারনে বাংলাদেশের ওপর থেকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কর্মক্ষম ও স্নেহময় হাত উঠে যায়!

আচ্ছা এই মুহূর্তে যদি কোন কারনে বাংলাদেশের ওপর থেকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার কর্মক্ষম ও স্নেহময় হাত উঠে যায়!

চারদিক থেকে ধেয়ে আসা শতবিপদ সংকুল পরিবেশে, সকল অন্ধকারের ঘনঘটা বুকের একপাশে রেখে, অন্য পাশে আমাদেরকে পরম মমতায় আর ভালবাসায়; যে মানুষটি আমাদের আগলে রেখেছেন
সেই মমতাময়ী ‘মা’ বিশ্বমানবতার বিবেক “দেশরত্ন শেখ হাসিনা”৷

চলুন একটু পিছন থেকে ঘুরে আসা যাক:
১৭মে,১৯৮১ সাল” সেদিন রচিতো হলো সপ্নের “সোনার বাংলায়” আরেক নতুন ইতিহাসের, অতঃপর এক “উদয়-উপাখ্যান”
যেদিন প্রকৃতিও অঝোরে কেঁদেছিলো তিব্র গর্জে!
সব হারানো পিতা- পরিবার হীন এতিম, আজন্ম চীরদুঃখী মহীয়সী আমাদের প্রানপ্রিয় ‘দেশরত্ন’ – “বঙ্গকন্যা শেখ হাসিনার” স্বদেশ প্রত্যাবর্তনে।
“১৯৭৫ সালের” সেই কলঙ্কিত দূর্যোগ পরবর্তী দীর্ঘ সাড়ে ছয় বছর পর এই দিনটাই ছিলো বাঙালির চরম কাঙ্ক্ষিত,বহুল প্রত্যাশিত “মাহেন্দ্রক্ষণ”!!! তখন ঘড়িতে সময় বিকেল সাড়ে চার ,বাতাসে ছিল স্পষ্ট বৈরিতা, ছিলো ভীষণ ঝড়- প্রচন্ড বৃষ্টি ও আঁধার উপেক্ষা করে আবারো মুখ থুবড়ে পড়া বাঙালি জাতির জন্য নিয়ে আসে মুক্তির এক “আলোকবর্তিকা” প্রিয় স্বদেশে এই দিনেই প্রথম ‘পা’ রেখেছিলেন “বঙ্গকন্যা শেখ হাসিনা”।
আসমান জমিন প্রকম্পিত করে তীব্র কষ্টে, অন্তর দহনে সেদিনই “দেশরত্ন” প্রথম পা রেখেছিলেন সোনার বাংলায়,
অঝোর ধারায় সেদিন ভীষণ কেঁদেছিলেন “বঙ্গকন্যা”।

অতঃপর “তিঁনি” উদ্ধাত আহ্বানে “কোটি-বাঙালিকে” শোনালেন তাঁর বিশ্বাস আর আশা আকাঙ্ক্ষার অমর সেই কথাগুলি– “আমি সব হারিয়ে আপনাদের কাছে এসেছি” তিনি আরো বলেন— “আমি আওয়ামী লীগের নেত্রী হওয়ার জন্য আসিনি। আপনাদের বোন হিসাবে,মেয়ে হিসাবে,বঙ্গবন্ধুর আদর্শে বিশ্বাসী আওয়ামী লীগের কর্মী হিসাবে আমি আপনাদের পাশে থাকতে চাই।”
অতঃপর “বাঙালি” বিশ্বাস রাখলো কার্যত পরম আশ্বস্ত হলো। অবশেষে “বাংলাদেশ”-“শেখ হাসিনাকে” প্রচন্ড গর্বে আর অহংকারে তাঁর “মাতৃগর্ভে” ধারন করলো। প্রকৃতপক্ষে “বাংলাদেশ ও বাঙালি” কিছুটা হলেও আবারো সুযোগ পেলো ইতিহাসের কলঙ্কিত ঘৃনিত “১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্টের” প্রচন্ড পাপ আর অভিশাপ মোচনের।

“কিছু হত্যা শুধু হত্যাই করতে পারে কখনো বিনাশ বা ধ্বংস করতে পারেনা- রেখে যায় “কষ্ট-স্মৃতি” আর বিপ্লবী রক্ত।
তেমনি কিছু “মৃত্যু” থাকে যা আমৃত্যু লাখো কোটি হৃদয়ে অবিনশ্বর “চির-স্মরণে”।
পাশাপাশি সে “অযাচিত-মৃত্যু” ভবিষ্যতের তীর্যক “গণ-বিদ্রোহের” ইঙ্গিত দেয় এবং কাম্য ফলাফল প্রকাশ করে। সে ধারাবাহিকতায় দেশবিরোধী ষড়যন্ত্রকারীরা পুরো পরিবারটি কেড়ে নিয়েই ক্লান্ত হয়নি- বারবার নির্যাতন,নিপীড়ন,বঞ্চনায় আর আক্রমনে নিঃশ্চিহ্ন করার ষড়যন্ত্রে আজও জাগ্রত! ভাষাহীন আর সীমাহীন আঘাতেও মমতাময়ী ‘মা’ দেশ-দেশের মানুষকে রেখেছেন নিজের জীবনের উর্ধ্বে৷

ত্রিশ লক্ষ শহীদের আত্মত্যাগে, দই লক্ষেরও অধিক ম্যা বনের সম্ভ্রমে ও হাজার বছরের লাঞ্ছিত, বঞ্চিত, অত্যাচারিত, ঘৃণিত, অসহায় বাঙ্গালীর মনের আর্তনাদে-আল্লহর অশেষ রহমতের দরুন – “২১” বার মৃত্যুর দ্বারপ্রান্ত থেকেও এমন স্বজন হারানোর মর্মান্তিক দৃশ্য বুকে ধারণ করেও এ সবকিছুই স্মৃতিপটে রেখে- আমাদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ও শান্তিতে বসবাস করার যুগোপযোগী এক বাংলাদেশ নির্মাণে ক্লান্তিহীন কাজ করে যাচ্ছেন অদ্যবধি।
আচ্ছা একটু ভাবুন তো: একজন মহিলা মানুষ হয়েও যে ভাবে’ আমাদের দেশকে পৃথিবীর বুকে একটি উন্নত মধ্যম আয়ের দেশ হিসেবে ইতিমধ্যে প্রমান করতে সক্ষম হয়েছেন আজকের বাংলাদেশের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনা।
আর বর্তমান বাংলাদেশের এমন দ্রুত অগ্রগতি দেখে পূর্বের ন্যায়ে বিশ্বের তথাকথিত সাম্রাজ্জবাদীরা রীতিমত ঈর্ষান্বিত হয়ে; দেশীয় একাত্তর ও পঁচাত্তরের কুশীলব তথা এদের পরবর্তী প্রজন্ম কর্তৃক আমাদের প্রিয় মাতৃভূমিকে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন অনভিপ্রেত পরিকল্পিত সংকটে আরোপন করেই যাচ্ছে! শুধু তাই নয় বিদেশের মানুষের কাছে আমাদের দেশকে বারবার প্রশ্নবিদ্ধ করছে!
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণতন্ত্রের চালিকাশক্তি ও হৃদপিণ্ড। নিরাপদ এক বাংলাদেশ নির্মাণে আপোষহীন ভূমিকায় তিনি আজ মানবিক বিশ্বের নেতা৷ নিজের দৈনন্দিন জীবনের কিয়াংশ রেখে পুরো সময়টা দেশের তরে আমাদের তরে উদাত্ত মানসিকতায় তিনি আজও নিদ্রাহীন৷

আচ্ছা এই মুহূর্তে যদি বাংলাদেশের ওপর থেকে কোনো কারণে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার কর্মক্ষম ও স্নেহময় হাত উঠে যায়! তবে উন্নয়ন ও গণতন্ত্রের পথে এগিয়ে যাওয়া বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা মুখ থুবড়ে পড়বে আবারও, বাংলাদেশকে আবারও পাকিস্তানে পরিণত করার যে মিথ্যা স্বপ্ন এখনো দেখে চলছে সেই পরাজিত স্বাধীনতাবিরোধী অপশক্তি- বিএনপি-জামাত ও কথিত ধর্মব্যবসায়ীরা তাও বাস্তবতায় রূপ পাবে।

এক-কথায় অনস্বীকার্য যে, শেখ হাসিনাই বাংলাদেশকে উন্নয়নের মহাসড়কে তুলে দিয়েছেন। শেখ হাসিনার নেতৃত্বেই বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশের কাতারে নাম লিখিয়েছেন। উন্নয়নের পথে বাংলাদেশের এই অগ্রযাত্রাকে জারি রাখতে হলে শেখ হাসিনার হাতকে আরও শক্তিশালী করতে হবে। শেখ হাসিনার দীর্ঘায়ু ও সুস্থতা বাংলাদেশের উন্নয়নের জন্য খুবই প্রয়োজন। উন্নয়নের যে উদ্দীপনা, যে আশা-আকাঙ্ক্ষা জনগণের মধ্যে শেখ হাসিনা সৃষ্টি করতে পেরেছেন তা টিকিয়ে রাখতে হলে আমাদের বিবেক বোধ জাগ্রত রেখে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে পুরো জাতিকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।

“ভালো থাকবেন ভালো রাখবেন”

“জয় বাংলা”
“জয় বঙ্গবন্ধু”
জয় হোক ও দীর্ঘায়ু হোক জননেত্রী শেখ হাসিনা।

আরাধনায়, বঙ্গবন্ধু মুজিবের আদর্শের শেখ হাসিনার একজন ক্ষুদ্র কর্মী- মোঃ রকিবুল ইসলাম রকিব ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *