থাকবো না আর পরাধীন এবার হবো; হবো নিশ্চয়ই স্বাধীন”-

লেখকঃ মোঃ রকিবুল ইসলাম রকিব,
সভাপতি, ময়মনসিংহ জেলা ছাত্রলীগ

“থাকবো না আর পরাধীন এবার হবো; হবো নিশ্চয়ই স্বাধীন”- এই মহান ব্রতকে সামনে রেখে বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ডাকে ‘বাংলাদেশ’কে স্বাধীন করতে ১৯৭১সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে প্রায় ১৭ হাজার সক্রিয় ছাত্রলীগ কর্মী নিজেদের জীবন উৎসর্গ করেছিলেন অকাতরেই।
বস্তুত বাংলাদেশ, বঙ্গবন্ধু এবং বঙ্গবন্ধু তনয়া আমাদের আপা শেখ হাসিনার প্রশ্নে ছাত্রলীগ আজন্ম‌ই আপোসহীন নিঃস্বার্থ আর অগ্রগামী!

শৈশব আর কৈশোরের দুরন্ত সময়গুলোকে সীমাবদ্ধ করে-
লড়াই সংগ্রাম আর আন্দোলনে একজন ছাত্রলীগ কর্মীর ঐ রাজপথ থেকে যে আবেগের জন্ম হয়, সেই ইস্পাত আবেগের নিবিড় অনুভূতির নাম‌ই ‘ছাত্রলীগ’!

একজন ছাত্রলীগ কর্মী হঠাৎ করেই কারো যাচ্ছেতাই স্বেচ্ছাচারিতায় কারো ব্যক্তিস্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য সৃষ্টি হয়না-
বরং বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে লালন করে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাস রেখে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার্থে “দেশরত্ন শেখ হাসিনার ডাকে ঐ পিচঢালা রাজপথে কৈশোরের দুরন্ত স্বপ্ন গুলো বিসর্জন দিয়েই একজন ছাত্রলীগ কর্মীর জন্ম হয়!

ছাত্রলীগের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস আছে, সেই ইতিহাসের প্রতিটি ভিতে, দিনলিপিতে, লিপিবদ্ধ আছে কত শত সহস্র ছাত্রলীগ কর্মীর ঘাম ঝড়া করুণ আর্তনাদ তাঁর ইতিহাসটা কি কেউ জানে নাকি নূন্যতম খবরটুকু রাখে?
‘বাংলাদেশের’ প্রতিটা ইতিহাস আর গৌরব অর্জনে ছাত্রলীগের একটি বৃহৎ ভাগ রয়েছে,
আর সেই ইতিহাসের একেকটি অধ্যায় থেকে প্রতিবার জন্ম নিয়েছে একেকটি নির্মল “অনুভূতি”!
যে ‘অনুভূতি’ প্রতিটি ছাত্রলীগ কর্মীর জীবনে একটি ‘স্বপ্নের’ জন্ম দিয়েছে,
কেউ তো ইচ্ছে করলেই সে স্বপ্নের অপমৃত্যু ঘটাতে পারে না- স্বপ্নগুলো বেঁচে থাকতে চায় বাস্তবতারর নিরিখেই, বেড়ে উঠতে চায় যদি সে স্বপ্নগুলো কভুও পথ দেখায়!

কোটি ছাত্রলীগ কর্মীর জীবনে স্বপ্ন ভঙ্গের করুণ অনুভূতিও আছে, জীবনের মধ্য সায়াহ্নে তাঁরা তাঁদের রাজনৈতিক কর্মী জীবনের হিসেব মেলাতে এসে শুধু হতাশ‌ই হয়েছে আজ তাঁরা ভাগ্যাহত, স্বপ্ন দেখা ভুলে গেছে!

আচ্ছা-একবার ভাবুন তো ছাত্রলীগের “গৌরব, ঐতিহ্য সংগ্রাম ও সাফল্যের সুদীর্ঘ ৭০ বছর ধরে বয়ে যাওয়া কত শত,লক্ষ,সহস্র,কোটি নির্ভীক যুবা আর ক্ষিপ্র সারথিদের এক একটি আবেগ থেকে জন্ম নেওয়া নানা বর্ণের কষ্ট যেমন-লাল কষ্ট,নীল কষ্ট,কাঁচা হলুদ রঙের কষ্ট,পাথর চাপা সবুজ ঘাসের সাদা কষ্ট,আলোর মাঝে কালোর কষ্টের জানা অজানা অনুভূতি গুলোকে যদি এক‌ই নিক্তিতে পরিমাপ করা হতো,তবে তার হিসেবটা কি দাঁড়াতো??

অথবা ঐ রক্তিম কষ্ট অনুভূতি গুলোই যদি আবার একটি স্বচ্ছ কাঁচের বেড়িতে জমিয়ে রেখে আপনাকে এমন প্রশ্নের সম্মুখীন করা হয় ঐ সাজানো স্বচ্ছ কাঁচের বেড়িটি দেখতে কেমন দেখাচ্ছে,বা কি বুঝা যাচ্ছে?

উত্তরটা কি হ‌‌ওয়া উচিত? উত্তরটি কতটুকু সঠিক হবে জানি না তবে সেই ছাত্রলীগের চেতনা আর অনুভূতির সাথে আমার অনুভূতির সমন্বয় ঘটিয়ে এতটুকুই অনুধাবন করতে পারলাম- রক্ত‌ই যদি একটি দেশের স্বাধীনতার মূল্য বলে বিবেচিত হয় তবে পৃথিবীর মানচিত্রে

‘বাংলাদেশ‌’ নামক লাল সবুজের বিজীত নিশান রাষ্ট্রটি এগিয়ে!

ঐ লাল সবুজের পতাকাটি ছিনিয়ে আনতে যে অনুভূতি নামক শক্তিটি সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছিলো সেই অনুভূতি আর এই অনুভূতি এক ও অভিন্ন নয়’কি?তবে পৃথিবীর বুকে ‘বাংলাদেশ ছাত্রলীগ’ই সর্বোচ্চ শক্তিশালী- সর্ব বৃহৎ হিরক ছাত্র সংগঠন!
ছাত্রলীগ আদর্শের কথা বলে,ছাত্রলীগ নেতৃত্ব তুলে আনে! আর যদি ভবিষ্যত বাংলাদেশকে আদর্শের আলোকে যোগ্য নেতৃত্বে এগিয়ে নেয়ার তাগিদ থাকে তবে নিশ্চয়ই নেতৃত্ব সৃষ্টির আতুর সংগঠন ছাত্রলীগের প্রয়োজন পড়বে’ই!
তাই কেউ যেন অনর্থক ব্যক্তিস্বার্থ, গ্রুপিং বা ক্যুরাম তৈরি করে ছাত্রলীগ কর্মীদের আবেগকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে তাদের অনুভূতিতে আঘাত করে তাদের স্বপ্ন ভঙ্গের কারণ হয়!

প্রতিটা ছাত্রলীগ কর্মীর যোগ্যতম মূল্যায়নটুকু হোক তাদের আবেগ অনুভূতি গুলোর চুলচেরা বিশ্লেষণ করা হোক আর প্রতিটি ছাত্রলীগ কর্মীর অন্তরাত্মায় স্বপ্নগুলো বেঁচে থাকুক!

আমি ‘রকিব’ কাউকে হতাশ করতে চাই না!
কারো স্বপ্ন ভঙ্গের কারণ হতে চাই না!
আমি গড়ে দিতে চাই স্বপ্নকে স্বপ্নের মতো করেই!তাই মূল্যায়ন চাই; নয় করুণা ভিক্ষা;
কর্মী জীবনের অধিকার ন্যায্য হিস্যা!
ভালো থাকুক ছাত্রলীগ,ভালোবাসার ছাত্রলীগ

জয়তু-বঙ্গকন্যা দেশরত্ন শেখ হাসিনা
জয়তু-ছাত্রলীগ জাগ্রত সারাবাংলা
জয় বাংলা✌জয় বঙ্গবন্ধু

লেখকঃ মোঃ রকিবুল ইসলাম রকিব,
সভাপতি, ময়মনসিংহ জেলা ছাত্রলীগ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *