President of Bangladesh Students League at Mymensingh District Unit.

“বাংলাদেশের অপর নাম- ছাত্রলীগ”

-লেখকঃ মোঃ রকিবুল ইসলাম রকিব

সভাপতি, ময়মনসিংহ জেলা ছাত্রলীগ
দীর্ঘদিনের চড়াই উতরাই অনাচার শোষণ অন্যায় বঞ্চনা লড়াই সংগ্রাম আর ত্যাগের পথপরিক্রমায় বঙ্গবন্ধুর আদর্শ আর মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উচ্চ শীরে অটুট অবিচল এবং অর্জনের সর্বোচ্চ ইতিহাস সমৃদ্ধ ঐতিহাসিক ছাত্র সংগঠনটির নামই "বাংলাদেশ ছাত্রলীগ"!

একটি ছাত্র সংগঠন যে ইতিহাসের ধারায় বা গতিপথ পাল্টে দিয়ে অধিকারহীন বঞ্চিত মানুষের মুখের ভাষা সহ সকল মৌলিক অধিকার আদায়ে, শোষিতদের মুখে তৃপ্তির হাসি ফোটাতে, অত্যাচারী স্বৈরশাসকদের চোখে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে বঙ্গবন্ধুর ডাকে বিশ্ব মানচিত্রে একটি স্বাধীন সার্বভৌম "বাংলাদেশ" এঁকে দিতে সক্ষম তা কেবল বাংলাদেশ ছাত্রলীগই করে দেখিয়েছে !

আর তাই ছাত্রলীগের রয়েছে এক সমৃদ্ধ অর্জনের ইতিহাস, ছাত্রলীগের ইতিহাস লড়াই সংগ্রাম আর ত্যাগের ইতিহাস

ছাত্রলীগের ইতিহাসই স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের ইতিহাস !

ছাত্রলীগ গঠনের উদ্দেশ্যেঃ

০১.ভাষা আন্দোলনে নেতৃত্ব দান ও "রাষ্ট্র ভাষা বাংলা চাই" আন্দোলনকে বেগবান!

০২.নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলন!

০৩.যৌক্তিক সকল দাবী আদায়!

০৪.ধর্মীয় দ্বিজাতিতত্ত্বের বিভ্রম দূরীকরণ!

০৫.অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার ভূমিকা পালন!


৪ঠা জানুয়ারি,১৯৪৮ঃ

শিক্ষিত তথা ছাত্র সমাজকে ব্যতিরেকে কখনোই একটি দেশ বা অঞ্চলের উন্নতির রূপরেখা কল্পনা করা যায় না। আর তাই ৪৭-এ দেশ বিভাজনের পর পূর্ব পাকিস্তানের (বর্তমান বাংলাদেশ) অবকাঠামোগত তথা সামগ্রিক পরিস্থিতি উন্নয়ন কল্পে ছাত্র সমাজকে সুসংগঠিত ও রাজনৈতিক ভাবে উদ্দিপ্ত করা অত্যাবশ্যক হয়ে দাঁড়ায়। তারই ধারাবাহিকতায়-

১৯৫২'র ভাষা আন্দোলনঃ

১৯৫২ সালের "রাষ্ট্র ভাষা বাংলা চাই" আন্দোলনকে সর্বোচ্চ বেগবান ও বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি অর্জনের পেছনে ৪৮'-৫২' পর্যন্ত বাংলাদেশ ছাত্রলীগ মূখ্যম ভূমিকা পালন করে!

১৯৫৪’র যুক্তফ্রন্ট নির্বাচনঃ

৫২'র ভাষা আন্দোলনে ছাত্রলীগের সাফল্যকে কাজে লাগিয়ে ৫৪'র যুক্তফ্রন্ট নির্বাচনেও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ছাত্রলীগের বিচক্ষণতা ও দুরন্তপনাকে ব্যবহার করেন!

১৯৬২ সালের শিক্ষা আন্দলনঃ

১৯৬২ সালে তৎকালীন আইয়ুব খান সরকার কতৃক গঠিত শরীফ কমিশন পাকিস্থানের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট একটি শিক্ষা নীতি প্রণয়ন করে!সেই প্রশ্নবিদ্ধ শিক্ষা নীতির বিরুদ্ধে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ গণজাগরণ তৈরি করে আর এভাবেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও পূর্ব পাকিস্থানের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হতে সামরিক জান্তার বিরুদ্ধে প্রথম গন অভ্যুত্থানের জন্মদেয় বাংলাদেশ‌ ছাত্রলীগ!
সামরিক জান্তারা শিক্ষা নীতির বিরুদ্ধে যৌক্তিক আন্দোলনকে প্রতিহত করতে এক ঘৃণ্য সাম্প্রদায়িক হ্যাঙ্গামা সৃষ্টি করলেন!
তখন বঙ্গবন্ধু শক্ত হাতে সেই দাঙ্গা প্রতিরোধ আন্দোলনের নেতৃত্ব দিলেন পাশাপাশি ছাত্রলীগকে তাদের শিক্ষা আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশনাও দিলেন! আর এভাবেই ৬২’ শিক্ষা আন্দোলন সাফল্য মণ্ডিত হলো!

১৯৬৬ এর ৬ দফাঃ

১৯৬৬ সালের ৬ দফা আন্দোলনটি বাংলাদেশের গণমানুষের কাছে "ম্যাগনা কার্টা বা বাঙ্গালীর মুক্তির সনদ" রুপে অভিহিত হল!
বঙ্গবন্ধুর একান্ত নির্দেশে আইয়ুব সরকার ভারী অস্ত্রের হুমকিকে বৃদ্ধাআঙ্গুলি দেখিয়ে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ জেলায় জেলায় তাদের অবস্থান সূদৃঢ় করে ৬ দফার সপক্ষে ব্যাপক প্রচারণা চালায় এবং বাংলার গণমানুষকে এর গুরত্ব উপলব্ধি করতে সচেষ্ট হয়!

১৯৬৯ এর গণ অভ্যুত্থানঃ

আইয়ুব সরকার ৬৬টির ৬ দফা আন্দোলনে নিজেদের আশু বিপদ উপলব্দি করে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার মাধ্যমে বঙ্গবন্ধুকে গ্রেফতার করে!কিন্তু বাংলার গণমানুষ তথা আপামর ছাত্রসমাজ তা মেনে নিতে পারেনি!শুরু হয় গণ আন্দোলন!১৯৬৯ সালের জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি মাসে  তা গণ অভ্যুত্থানে রূপ নেয় যার সম্মুখপাণে নেতৃত্ব দেয় বাংলাদেশ ছাত্রলীগ! অবশেষে ছাত্রলীগ জেলের তালা ভেঙ্গে মুজিবকে ফিরিয়ে আনেন তাঁর স্নেহময়ী মাতৃগর্ভে !

১৯৭০ এর নির্বাচনঃ
৬৯ এর ২৫ শে মার্চ জেনারেল ইয়াহিয়া খানের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করে জেনারেল আইয়ুব খান ক্ষমতা থেকে সরে দাঁড়ায়!
ইয়াহিয়া খান দেশের সাধারণ নির্বাচনের সময় ঠিক করে দেন ১৯৭০ সালের ডিসেম্বর মাসে! কিন্তু নির্বাচনের ঠিক একমাস আগে অর্থাৎ নভেম্বর মাসে এক প্রলয়াঙ্কারী ঘূর্ণিঝড়ে এক রাতেই ১০ লাখ মানুষ প্রাণ হারায় এবং ছিন্নমূল হয় প্রায় ৩০ লাখ মানুষ!পূর্ব বাংলা এই ভয়ংকর দূর্যোগকে ধৈর্য্যের সাথে মোকাবেলা করে ডিসেম্বরে ঠিকই পূর্বঘোষিত নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে! ৭০ এর সেই গণপরিষদ নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ নিরঙ্কুশ  জয়লাভ করে!ভাগ্যহত বাংলার মানুষকে আশার কূলে ভিড়িয়ে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে ৭০ এর নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের ঐতিহাসিক জয়ে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ বিচক্ষণ ভূমিকা পালন করে!

১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধঃ

১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ তাঁর সর্বোচ্চ ত্যাগের নজির দেখিয়ে! বাংলাদেশ ছাত্রলীগ বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনের উদ্দেশ্যে মহান মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করে এবং প্রায় ১৭হাজার নেতা কর্মী শহীদ হয়!
ছাত্রলীগের ইতিহাসই স্বাধীনতার ইতিহাস!

১৯৭৫-৮১ সালঃ 

১৯৭৫' সালে কতিপয় বিপদগামী সেনা সদস্য কর্তৃক পিতা মুজিব সহ স্ব-পরিবারে শাহাদাৎ বরণে- সে দিন প্রকৃতিও অঝোরে কেঁদেছিল - বাংলার আকাশ, বাতাস, নদী, মানুষ স্তব্ধ হয়ে বাকরুদ্ধ হয়ে গিয়েছিল, পাখিরা গান গায়নি, গাছের পাতা নড়েনি এরূপ বিভীষীষিকাময় অন্ধকারাচ্ছন্ন পরিস্থিতিতে দীর্ঘ ছয়টি বছর বাংলাদেশ ছাত্রলীগ‌ই লড়াই, সংগ্রাম আর জীবন মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে থেকেও সর্বত্র নানা ধরনের আন্দোলন চালিয়ে গিয়েছে!
ছাত্রলীগের নিরলস পরিশ্রম ও চেষ্টায় অবশেষে ১৯৮১ সালে ১৭ই মে' বঙ্গবন্ধু তনয়া দেশরত্ন শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের মধ্যদিয়ে ছিনতাই হয়ে যাওয়া বিজয় পুনরুদ্ধারের মধ্যদিয়ে বাংলার ভাগ্যাকাশে আবারো আশার দ্বীপ জ্বলে দিল।

১৯৮৩ শিক্ষা আন্দোলনঃ

সামরিক শাসনের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে ১৯৮৩ সালে শিক্ষা আন্দোলন ও সর্বদলীয় ছাত্রঐক্যের ১০ দফা তৈরিতে নেতৃত্ব দেয় বাংলাদেশ ছাত্রলীগ! শিক্ষার অধিকার প্রসারে শামসুল হক ও অধ্যাপক কবীর চৌধুরীর কমিশনের রিপোর্ট তৈরিতে ছাত্র সমাজের পক্ষে জোরালো অবস্থান নেয় ছাত্রলীগ!
৯০' এর স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনঃ
৯০' এর স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনের পুরোভাগেই ছিল ছাত্রলীগ,  বাংলাদেশ ছাত্রলীগের নেতৃত্বে সর্বদলীয় ছাত্র ঐক্য গঠনের মাধ্যমে এরশাদের স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনকে যৌক্তিক আন্দোলনে পরিনত‌হতে গিয়ে গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে জেনারেল এরশাদ ৪ঠা ডিসেম্বর পদত্যাগের ঘোষণা দেন এবং ৬ই ডিসেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগ করতে বাধ্য হন!আর এভাবেই ছাত্রলীগের নেতৃত্বে ৯০' এর স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনের সফল সমাপ্তি ঘটে !

১৯৮৮ ও ৯৮ এর দূর্যোগ মোকাবেলাঃ

কোটি বাঙালির প্রাণের স্পন্দন, সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণের নিপুণ কারিগর বিশ্বজয়ী নেত্রী বিশ্বশান্তির অগ্রদূত নারীমুক্তির পথপ্রদর্শক দেশরত্ন শেখ হাসিনার প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ ১৯৮৮ সালের ভয়াবহ বন্যার ক্ষতি মোকাবেলায় পালন করেছে অগ্রণী ভূমিকা!সে সময় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে দিনে তিনবেলা নিজ হাতে রুটি তৈরি করেছেন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা!সারারাত জেগে প্রস্তুত করেছেন খাবার স্যালাইন!সেগুলো পৌঁছে দেওয়া হয়েছে দুর্গম এলাকার মানুষের কাছে! আর এক‌ই ধারাবাহিকতায় ১৯৯৮ সালের বন্যাসহ সব প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ একই কার্যক্রম নিয়ে বিপর্যস্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে !
১৯৯৮ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র বেতন বৃদ্ধির প্রতিবাদে সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিয়ে সর্বাত্মক আন্দোলন গড়ে তুলেছিল ছাত্রলীগ !

২০০১-০৬ বি.এন.পি- জামাত জোট সরকারের প্রহসনঃ

২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত হত্যা, সন্ত্রাস, জঙ্গি পালন করতঃ স্বাধীনতা বিরোধী বি.এন.পি- জামাতের পূর্ব পরিকল্পিত নীল নকশার মাধ্যমে পাকিস্থানী এজেন্ডা বাস্তবায়ন, যুদ্ধাপরাধীদেরকে সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে পুনর্বাসন, প্রশাসনকে জামাতিকরন, ২০২০ সালের মধ্যে জামাতকে ক্ষমতায় অধিষ্টীতকরনের নীল নকশা বাস্তবায়ন এবং স্বাধিনতার পতাকাবাহী সংগঠন বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীদেরকে নিশ্চিহ্ন করার মাধ্যমে আওয়ামীলীগকে দুর্বল করে বাংলাদেশকে পাকিস্থানী তাবেদার রাষ্ট্র বানানোর অশুভ পাঁয়তারায় খুনী জিয়ার উত্তরসুরী খালেদা- নিজামীর জোট সরকারের সকল নগ্ন ষড়যন্ত্রকে নস্যাৎ করনে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ আপসহীন ভূমিকা পালন করেন যার ফলাফল স্বরূপ আজকের ডিজিটাল বাংলাদেশ।

নেত্রী মুক্তি আন্দোলনঃ

১/১১’র পট পরিবর্তনের মাধ্যমে জাতি সাজানো নির্বাচনের অভিশাপ থেকে মুক্তি পেলেও সবচেয়ে ভয়ংকর, অবিশ্বাস্য এবং ষড়যন্ত্রমূলক আঘাত আসে ১৬ জুলাই। এ দিন তৎকালীন সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার বিনা কারণে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনাকে গ্রেফতার করে ।
এই গ্রেফতারের প্রতিবাদে ছাত্রলীগ প্রথম প্রতিবাদ করে এবং সারা দেশে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সর্বাত্মক ছাত্র ধর্মঘট ও স্বতঃস্ফুর্ত ছাত্র বিক্ষোভে নেতৃত্ব দেয় এবং মুহুর্মুহু আন্দোলনের মাধ্যমে শেষতক মুক্ত করে আনে হাসু আপাকে ।

২০০৮-১৭ বাংলাদেশ ছাত্রলীগের ভূমিকাঃ

২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর বাংলার জনগণের গণরায় নিয়ে ডিজিটাল বাংলাদেশ, ক্ষুধা- দারিদ্র্যমুক্ত বাংলাদেশ বিনির্মাণের প্রত্যয়ে শেখ হাসিনা বাংলার মানুষের সেবায় নিয়োজিত আছেন। শেখ হাসিনা ঘোষিত ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার কর্মসূচী বাস্তবায়নে এবং ছাত্রসমাজকে দক্ষ মানব সম্পদে রূপান্তরিত করার লক্ষ্যে তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষার বিকাশে নিরলস ভাবে কাজ করে যাচ্ছে ছাত্রলীগ ।
২০০৮ সালের জাতীয় নির্বাচনের ইশতিহারের অঙ্গীকার অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তরুণ প্রজন্ম ও ছাত্র সমাজের স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে দেশকে ইতিহাসের কলঙ্ক ও দায়মুক্ত করার লক্ষে স্বাধীনতার ৪২ বছর পরে মানবতাবিরোধী যুদ্ধাপরাধীদের বিচারকার্য সম্পন্ন করতে বর্তমান সরকার যে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন সেই অঙ্গীকারকে সহযোগিতা করার জন্য ছাত্রলীগ নিজেদেরকে আত্মনিয়োগ করে। চলমান এই বিচার প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত করার লক্ষে বিএনপি,জামায়াত-শিবিরের দেশব্যাপী সাধারণ মানুষ হত্যা, নৈরাজ্য, ভাঙচুর, জ্বালাও-পোড়াও ও রাষ্ট্রবিরোধী সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে ছাত্রলীগ রাজপথে প্রতিবাদী অবস্থান নেয়। এই কর্মসূচী সফল করার লক্ষে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের মূল্যবান জীবনও বিসর্জন দিতে হয়েছে ।
২০১৪ সনের ৫ জানুয়ারি দেশের গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত রাখার জন্য নির্বাচন যখন জামায়াত বিএনপির সন্ত্রাসীরা প্রতিহত করার অপচেষ্টা চালিয়েছিল তখনই সারা বাংলাদেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ সর্বস্তরে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা দেশের সাধারণ জনগণ তথা ছাত্র-ছাত্রীদের পাশে ভ্যানগার্ড হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছে। দেশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিবির-ছাত্রদল সন্ত্রাসীরা যখন শিক্ষক ও ছাত্রহত্যার প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হয়েছে তখন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও প্রযুক্তি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়ের প্রত্যক্ষ নির্দেশনায় সারা বাংলার সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে অস্ত্রবাজমুক্ত করার লক্ষ্যে “ক্লিন ক্যাম্পাস এন্ড সেভ ক্যাম্পাস’ কর্মসূচী পালন করে। দেশের চলমান এই উন্নয়নের ধারা আরো গতিশীল রাখার অঙ্গীকারকে সামনে রেখে দেশের ছাত্র সমাজকে সাথে নিয়ে ছাত্রলীগ সাংগঠনিক কর্মকান্ড চালিয়ে যাচ্ছে ।

বাংলাদেশ ছাত্রলীগ আজন্ম আন্দোলন-সংগ্রামের পাশাপাশি দুস্থ শিশুদের মাঝে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ, শীতার্তদের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ, রক্তদান, বৃক্ষরোপণ, পথশিশুদের জন্য ভ্রাম্যমাণ পাঠদান কর্মসূচি বাংলাদেশ ছাত্রলীগের দীর্ঘদিনের চর্চা!

১৯৭৩ সালের ৪ মার্চ বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, ‘শেখ মুজিবুর রহমানকে বেটে খাওয়ালেও বাংলা সোনার বাংলা হবে না, যদি বাংলাদেশের ছেলে আপনারা সোনার বাংলার সোনার মানুষ পয়দা করতে না পারেন।’ তাই তো বাংলাদেশ ছাত্রলীগের প্রতিটি নেতাকর্মীর ব্রত সোনার মানুষ হওয়ার !
বাংলাদেশ ছাত্রলীগ‌ই ইতিহাস সৃষ্টি করে!ছাত্রলীগেরই রয়েছে গৌরব ঐতিহ্য লড়াই সংগ্রাম ত্যাগ আর অর্জনের সুদীর্ঘ ৭০টি বছর !
মহান স্বাধীনতা তথা মুক্তিযুদ্ধের রূপরেখা ও নেতৃত্বে ছিলেন হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং বাস্তবায়নে অগ্রনী "বাংলাদেশ ছাত্রলীগ" !


"ছাত্রলীগ আমার, ছাত্রলীগ তোমার

ছাত্রলীগ সর্বত্র জাগ্রত- শাশ্বত সারা বাংলার"

"ভালবাসি ছাত্রলীগ, ভালবাসার ছাত্রলীগ"
জয় বাংলা     জয় বঙ্গবন্ধু

জয় হোক বাংলাদেশ ছাত্রলীগের !

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *